নোটিশ
নতুন নোটিশ এখানে স্ক্রল করবে।

বাংলাদেশ আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস

বাংলাদেশ আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ একটি আদর্শভিত্তিক সংগঠন হিসেবে শিক্ষা, শান্তি, সেবা ও প্রগতি—এই চারটি মূলনীতিকে ধারণ করে প্রতিষ্ঠিত হয়। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সেই আদর্শ ও চেতনাকে ধারণ ও লালন করার প্রত্যয়কে সামনে রেখে সংগঠনটির পথচলা শুরু হয়।

২০০৭ সালের ১৬ জুলাই শেখ হাসিনাকে গ্রেফতারের পর তাঁর মুক্তির আন্দোলনকে আরও বেগবান করার লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী তরুণ প্রজন্ম ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অনুসারীদের ঐক্যবদ্ধ করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। সেই প্রেক্ষাপটে ২০০৭ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর শিক্ষা, শান্তি, সেবা ও প্রগতি—এই চারটি মূলনীতিকে ভিত্তি করে বাংলাদেশ আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ নামক সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই সংগঠনটির অন্যতম লক্ষ্য ছিল বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সেই চেতনাকে বহমান রাখা।

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাকালীন লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের মধ্যে ছিল দেশপ্রেম, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনা সংরক্ষণ, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক ও আদর্শিক দর্শন নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং দেশের গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে সাংগঠনিকভাবে কাজ করা। একই সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি অঙ্গীকার, মানুষের সেবা এবং সামাজিক দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও সংগঠনের কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।

প্রতিষ্ঠার পর সময়ের সঙ্গে সংগঠনটির কার্যক্রম বিস্তৃত হতে থাকে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মসূচিতে সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ ঘোষিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে সংগঠনের নেতাকর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের কথাও সংগঠনের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে। জামায়াত-শিবির, বিএনপি ও হেফাজতে ইসলামের রাজনৈতিক কর্মসূচি ও আন্দোলনের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ ঘোষিত বিভিন্ন কর্মসূচিতেও সংগঠনের নেতাকর্মীরা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন বলে সংগঠনের ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে।

সংগঠনের দীর্ঘ পথচলায় বিভিন্ন সময়ে নানা প্রতিকূলতা ও সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। তারপরও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে সংগঠনটির কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রচেষ্টা চালানো হয়। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা এবং সংগঠনের মূল আদর্শের প্রতি অবিচল থাকার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

পরবর্তীকালে ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর সংগঠনের একটি অংশের কার্যক্রম নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়। এ অবস্থায় সংগঠনকে পুনরায় গতিশীল, সুসংগঠিত ও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়। সেই লক্ষ্যেই পূর্বের কমিটি ভেঙে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী, সাহসী ও সক্রিয় নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে একটি নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠনের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো সারা বাংলাদেশের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে পুনর্গঠন ও গতিশীল করা। জেলা, মহানগর, উপজেলা, পৌরসভা ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি, সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করা এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে সংগঠনের আদর্শ ও উদ্দেশ্য তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের লক্ষ্য হলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, দেশপ্রেম, মানবিক মূল্যবোধ এবং সামাজিক দায়িত্ববোধকে সামনে রেখে একটি সুসংগঠিত প্রজন্ম গড়ে তোলা। শিক্ষা, শান্তি, সেবা ও প্রগতির চার মূলনীতিকে ধারণ করে সংগঠনের নেতাকর্মীরা দেশ ও মানুষের কল্যাণে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সংগঠনের বর্তমান সাংগঠনিক উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো ঐক্যবদ্ধভাবে সংগঠনকে পুনরুজ্জীবিত করা, দেশব্যাপী নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় সৃষ্টি করা এবং একটি কার্যকর সাংগঠনিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা। একই সঙ্গে সংগঠনের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের প্রত্যাশা এবং তাঁর প্রতি অবিচল আস্থার কথা তুলে ধরা হয়েছে।

বাংলাদেশ আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস তাই শুধু একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশের ইতিহাস নয়; সংগঠনের নিজস্ব বর্ণনা অনুযায়ী এটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, দেশপ্রেম এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে আদর্শকে বহমান রাখার একটি সাংগঠনিক প্রয়াসের ধারাবাহিকতা। ভবিষ্যতে সংগঠনটি আরও সুসংগঠিত ও গতিশীল হয়ে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে তার ঘোষিত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে কাজ করবে—এটাই সংগঠনের প্রত্যাশা।

বাংলাদেশ আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের প্রতিষ্ঠার মূল ভিত্তি:
শিক্ষা • শান্তি • সেবা • প্রগতি

আদর্শ: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ
চেতনা: মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা
লক্ষ্য: প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে দেশপ্রেম, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শকে বহমান রাখা